চলুন একটি গল্প শুনি

ফয়সাল একজন ব্যবসায়ী।উনার স্ত্রী এবং দুই সন্তানসহ পরিবারে চারজন সদস্য।গত কয়েক বছর ধরে উনি সোস্যাল মিডিয়া,ইউটিউবসহ একটি অটিটি প্ল্যাটফর্মের রেজিস্টার্ড সদস্য।ডিসলাইনের বাংলা চ্যানেলে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান না থাকায় উনার স্ত্রীও ইউটিউবে বিভিন্নধরনের কন্টেন্ট দেখেন।
উনার দুই সন্তান। একজনের নাম আবির। এইবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে।সম্প্রতি তাকে একটা মোবাইল ফোন কিনে দেয়া হয়েছে অনলাইনে ক্লাস ও কোচিং করার জন্য।তাছাড়াও সে ইউটিউবে নিয়মিত এডুকেশনাল কন্টেন্ট দেখে।দিনের কিছুটা সময় সে ফ্রি ফায়ার/পাবজি টাইপের গেইমও খেলে।
এবং অন্যজন, টিটু অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।সে অনলাইনে ইউটিউবে টিউটুরিয়াল দেখে দেখে গ্রাফিক ডিজাইন শিখেছে।কিছু মার্কেটপ্লেসে সে কাজও করে। তার একটা ফেসবুক পেজও আছে যেখানে সে তাদের গ্রামের বিখ্যাত কিছু খাবার ব্র্যান্ডিং করে সেল করে।
তারা যে ইন্টারনেট লাইন ব্যবহার করে সেটির জন্য মাসিক ১৫০০/- এর মতো বিল দিতে হয় (উক্ত ইন্টারনেট সেবাটি ফয়সাল সাহেব একটি বিজ্ঞাপন দেখে এবং এলাকার কিছু বড় ভাইদের কথায় নিয়েছিলেন।যেখানে ডেডিকেটেড সার্ভিসের কথা বলা ছিলো) আবার একজন ছাড়া বাকি তিনজন সদস্যকেই মোবাইলের ডাটা প্যাক কিনতে হয় কারন বাসার বাইরে রাউটারের ওয়াইফাই কাজ করে না।মাস শেষে শুধু ইন্টারনেট বিলই আসে কয়েক হাজার টাকা, তারপরতো আছেই সমস্যা আর সমস্যা।
এই গল্পটি থেকে আমরা যা জানতে পারি
১. যেহেতু সবাই ইতিমধ্যে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সার্ভিস বা সুবিধা ভোগ করছে সেহেতু তারা সবাই খুব ভালোভাবেই জানে ইন্টারনেট সম্পর্কে।
২.বিনোদন,শিক্ষা,বিজনিস এবং ফ্রিল্যান্সিং যে পারস্পেকটিভ থেকেই দেখা হোক না কেনো,ফয়সাল সাহেবের পরিবারের জন্য ইন্টারনেট একটা প্রয়োজনীয় সেবা।
৩.বিলবোর্ড বিজ্ঞাপন,পোস্টার,লিফলেট,টিভিসি বা অভিসিতে ইন্টারনেট কোম্পানির আকর্ষনীয় কমিউনিকেশন গুলো তাকে মটিভেট করে একটা কমিটেড কোম্পানীর দ্রুতগতির, সাশ্রয়ীরেটে ঝামেলাবিহীন পুরো পরিবার যেনো নিরবিচ্ছিন্ন সার্ভিস যেনো পায়।
৪.কিন্তুু মাসের বেশিরভাগ সময়ই ইন্টারনেটের স্পিডে সমস্যা হয় লাইনের কানেকশন থাকে না বাফারিং হয় এবং কাস্টোমার সাপোর্ট জিরো টাইপের।ফোন দিলে কেউ খুব একটা রেসপন্স করে না।আর অফিসে দিনে বেশিরভাগ সময় তালা দেয়া থাকে।
৫.উনি তার এলাকায় যে কোম্পানীর লাইন নিয়েছেন উনি জানেন এখান থেকে আর ব্যাটার সার্ভিস পাওয়া সম্ভব না।কিন্তুু ডেডিকেটেড লাইন দেয়ার মতো কমিটেড কোনো কোম্পানী তার এলাকায় নেই।
৬.ডেডিকেটেড লাইন এবং চমৎকার ইউজার এক্সপেরিয়ান্সের কাস্টোমার সার্ভিস জিনিসটা ফয়সাল সাহেবকে ট্রিগার করে।কিন্তুু উনি প্রতারনার শিকার এগুলো বলেও করা হয়নি।
৭.এলাকার কিছু সিনিয়র বড় ভাইয়ের সাথে ফয়সাল সাহেবের ব্যাপক সখ্যতা।মূলত উনাদের সাথে কথা বলেই উনি লাইনটা নিয়েছিলেন।তাছাড়াও বড় ছেলে টিটু যেহেতু ইন্টারনেটে কাজ করে সেহেতু ওর এগুলো সম্পর্কে ভালো নলেজ আছে বিধায় ঐ পরিবারের জন্য টিটুও একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করে।
এই গল্পটির পেছনে লুকিয়ে আছে কয়েকটি থিম
যেমন-
১.মানুষের নিড বা প্রয়োজন
২.কোনো প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানুষের নলেজ বা জ্ঞান
৩.উক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা বা লিমিটেশন
৪.উক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহারে বাধা বা ওবস্টাকল
৫.উক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহারের প্রতি প্রেষনা বা মোটিভেশন
৬.উক্ত প্রোডাক্টটি ব্যবহারের জন্য কোন বিষয়টি ট্রিগার করে
৭.উক্ত প্রোডাক্টটি ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টি প্রভাবিত করে।
অর্থাৎ একটি ইউজারের ডিসিশন নেয়ার জন্য এগুলো জানা খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। আমরা প্রতিনিয়ত তা করার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *